জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের ওষুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের অভিযানে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও বিপুল অনুমোদনহীন ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের ১ নম্বর সড়কের ১/২৮ এর একটি আবাসিক ভবনের নিচ তলায় এ অভিযান চালনো হয়। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে চালানো এ অভিযানে সহযোগিতা করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি) ফরিদপুর অফিস।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব রহমান আকাশ বলেন, এর আগে জনতা ল্যাবরেটরিজে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং শাহেদ নামে একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই তথ্যের সূত্র ধরে ফরিদপুর শহরের গোয়াল চামট ১ নম্বর সড়কের ১/২৮ এর একটি আবাসিক ভবনের নিচ তলায় অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে বিপুল বিভিন্ন ধরনের ভেজাল ওষুধ ও শিশুখাদ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা ক্ষতিকর কেমিক্যাল পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এ ল্যাবরেটরির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে এক ব্যক্তিকে পেয়েছি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রায় আড়াই লাখ টাকা সমমানের বিভিন্ন ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পাওয়া গেছে, সেগুলোকে বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করা ব্যবস্থা নিয়েছি। একই সঙ্গে এ ভবনে যেন জনতা ল্যাবরেটরিজ পরবর্তীতে আর কোনো কার্যক্রম চালাতে না পারেন সে বিষয়ে ভবন মালিককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের আরেকটি কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনা করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো।
দণ্ডপ্রাপ্ত এনসিপি নেতা মো. বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধভাবে এ কারখানাটি পরিচালনা করে আসছেন। অভিযানকালে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিভিন্ন প্রকার আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার কারখানা থেকে বিপুল অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বায়েজিদ হোসেনকে বরখাস্ত করে।
