ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে একটি বাদে বাকি সব কটিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দ্য অ্যাথলেটিক ও দ্য টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ম্যান সিটি আপিল করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। লিগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এটি একটি গোপনীয় প্রক্রিয়া, আমরা এ বিষয়ে একেবারেই কোনো মন্তব্য করছি না।
অন্যদিকে ম্যান সিটি দাবি করেছে, মামলাটির এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান। এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি এবং পুরো বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার অধীন।
ক্লাবটি আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া বিবৃতির অবস্থানেই তারা অনড় রয়েছে। গত আট বছর ধরে তারা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে আসছে এই বিশ্বাসে যে, প্রিমিয়ার লিগ বোর্ড ও নির্বাহীরা নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে।
এই রায় চূড়ান্ত হলে তা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই মামলা লিগের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং সফলতম ক্লাবগুলোর ওপর নিয়ম প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
২০০৯-১০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটিকে একটি স্বাধীন কমিশনের কাছে পাঠায় প্রিমিয়ার লিগ। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ক্লাবটি। সিটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল- ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত তারা স্পনসরশিপ আয় ও পরিচালন ব্যয়সহ নিজেদের আয়ের ‘প্রকৃত ও স্বচ্ছ’ হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই মামলার শুনানি প্রায় তিন মাস পর ৬ ডিসেম্বর শেষ হয়। প্রিমিয়ার লিগের জুডিশিয়াল প্যানেলের নিয়োগ দেওয়া তিন সদস্যের একটি স্বাধীন কমিশন এই শুনানি পরিচালনা করে।
এর আগে ২০২০ সালেও স্পনসরশিপ আয় বাড়িয়ে দেখানোর কারণে উয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করে সেবার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠে ক্লাবটি।
২০০৮ সালে শেখ মনসুরের আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর থেকে ম্যানচেস্টার সিটি আটটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি এফএ কাপ এবং সাতটি লিগ কাপ জিতেছে। চলতি মৌসুমেও প্রথম পাঁচটি ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের শীর্ষেই আছে তারা।
সিটির এই রায় নিয়ে এত আলোচনার অন্যতম কারণ হলো, আর্থিক নিয়মভঙ্গের কারণে এর আগে অন্য ক্লাবগুলোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে এভারটনের মোট ৮ পয়েন্ট এবং গত মার্চে একই কারণে নটিংহাম ফরেস্টের ৪ পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। তবে সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এক দশকের বেশি সময়ের, যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে একেবারেই নজিরবিহীন। এর রায়ের অপেক্ষায় বছরের পর বছর ধরে প্রহর গুনছেন আইনজীবী, ক্লাব নির্বাহী ও সমর্থকেরা।
সূত্র: রয়টার্স।
