‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ বলা সেই ইউপি চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

সহিংসতার প্রস্তুতি হিসেবে নিজ সমর্থকদের দেশীয় অস্ত্র বানানোর নির্দেশ ও হত্যা হলে দায় নেওয়ার কথা বলে চরম বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্যা। এ সম্পর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকেই তাকে মরিয়া হয়ে খুঁজছে পুলিশ।

একই অপরাধে তাকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে জবাব চেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন।

জানা গেছে, স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সালথার খারদিয়া ও বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া এলাকাবাসীর মধ্যে সম্প্রতি কয়েকদফা সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকার উজিরপুর বাজারে নিজ গ্রাম্যদলের সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।

ওই বক্তব্যের ১২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যেকোনো কিছু করতে হলে আমাদের না জানিয়ে করলে তার দায়ভার আপনাদের। কিন্তু আমাদের নেতৃত্বে কিছু হলে- দুইটা মার্ডার হোক বা পাঁচটা, সেই দায়ভার আমাদের। আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে থাকেন। যার যার অস্ত্র বানাতে হবে, আমাদের হুকুম ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উজিরপুরবাসী যদি অন্তত ২০ মিনিট ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, তবে পাশের ২০টি গ্রাম থেকে যত লোক লাগে আমি পাঠাব।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এসময় আরও বলেন, ‘আপনারা একতা মেনে থাকেন। আর একটা কথা, অস্ত্রগুণে সিপাহি নড়ে। যার যার অস্ত্র বানাইতে হবে।’

তার এই বিতর্কিত বক্তব্য ভাইরাল হতেই দায় এড়াতে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে খারদিয়া কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রফিকুল চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এতে তার কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান রফিকুলকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

পরদিন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ এলাকায় গোপনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে অনুষ্ঠিত একটি সভার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই এডিটেড ভিডিওর ভিত্তিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, সমর্থকদের অস্ত্র বানানোর নির্দেশ ও হত্যাকাণ্ডে দায় নেওয়ার কথা বলার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে মরিয়া হয়ে খুঁজছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। তাকে পেলেই আটক করা হবে।
 
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, যদুনন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। এই বক্তব্যর ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন