শিক্ষকতা বাদ দিয়ে ঘরে বসেই রুমার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে নেওয়া ব্যবসায়ী উদ্যোগে সফলতা পাওয়ায় মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন গাইবান্ধার খালেদা আক্তার রুমা নামের এক নারী। নিজের শ্রম-মেধাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র দুই মাসেই তিনি হয়ে উঠেছেন সফল উদ্যোক্তা। ঘরে বসে ঢেঁকি ছাঁটা চাল, লাল আটা, হাতে ভাজা মুড়ি, বিভিন্ন ধরনের মসলা, মধু, চিয়া সিড ও অন্যান্য কৃষিজাত দেশীয় পণ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করে প্রতিমাসে তিনি আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষিপণ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতের মাধ্যমে অনলাইন এবং সরাসরি বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় সংসারের খরচ যোগানোর পাশাপাশি রুমা সৃষ্টি করছেন নারী-পুরুষদের জন্য কর্মসংস্থান। অবহেলিত নারীদের সাবলম্বী ও নিরাপদ খাদ্য জনসাধারণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য বলেও জানান রুমা।

খালেদা আক্তার রুমা ১২ বছর বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিরাপদ খাদ্য মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া ও গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই মাস আগে শিক্ষকতা ছেড়ে এ উদ্যোগ হাতে নেন তিনি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরসভার ৩নং দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় দেশীয় কৃষিপণ্য নিয়ে রুমা গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আঞ্চলিক সম্ভার’।

রুমার বাড়িতে সকাল থেকেই শুরু হয় নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতের কাজ। একদিকে গ্রামের অসহায় নারীদের ধান ভাঙানোর ইলেকট্রিক মেশিন চালানো শেখানো হয়, পণ্য উৎপাদন করা হয়। অন্যদিকে একদল যুবক দিয়ে ক্রেতাদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিরাপদ খাদ্যের অনলাইন প্রচার। তার এসব কাজে সহযোগিতা করছেন বাবা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম।

উদ্যোক্তা রুমা বলেন, নিরাপদ খাদ্য প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার লক্ষ্য। কারণ এখন আমরা যেসব খাবার খাই তা সবই ক্ষতিকর। এজন্য শিক্ষকতা ছেড়ে আমি ঢেঁকি ছাঁটা চালের ধান সংগ্রহ করে অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করছি যাতে মানুষ নিরাপদ খাদ্য পায়। শুধু এই চালই না, ঢেঁকি ছাঁটা চালের মুড়ি, আটাসহ দেশীয় বিভিন্ন ধরনের মসলা, মধু, চিয়া সিড, বিভিন্ন গুঁড়া ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য মানুষের কাছে খুব সহজে পৌঁছে দিচ্ছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালু করার আশা আছে।

তিনি আরও বলেন, এতে করে একদিকে যেমন গ্রামের অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, তেমনি নিরাপদ খাদ্য প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারব। 

রুমার এই কার্যক্রমের জন্য এখন নিজ এলাকা ও পাশ্ববর্তী গ্রামবাসি নারীদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়েছে।

হাসিনা বেগম নামে এক নারী কর্মচারী বলেন, ‘আপা উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা কাজ করতে পারছি। আগে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ স্বামীর কাছে নিতে হতো। এখন আর নেই না। এখানে কাজ করে সংসার ভালোই চলছে।’ 

প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কর্মী আবির হোসেন বলেন, ‘আপার এমন উদ্যোগকে আমরা যুবসমাজ সাধুবাদ জানাই। তার জন্য এখানে আমরা পাঁচজন যুবক কাজ করতে পারতেছি।’ 

রুমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, ছোট থেকে আমার মেয়েটি নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সচেতন। এজন্য তার এমন উদ্যোগ। আমার চাকরি জীবনের গচ্ছিত টাকা দিয়ে সে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমি তার এই কাজে অনেক খুশি।

অপরদিকে, গাইবান্ধা জেলার বিসিক সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, রুমার মতো উদ্যোক্তাদের পাশে আমরা সবসময় আছি। সে যদি সরকারি সহযোগিতা চায়, তাহলে আমরা তাকে সহযোগিতা করব।

রুমার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই কার্যক্রম আরও বৃহৎ পরিসরে করার স্বপ্ন তার।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন