কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ফেরদাউসুর রহমান। এছাড়া একই ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আলম ঘোষণা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে চলাফেরা ও সবধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়ানোর।
ফেরদাউসুর মহারাজপুর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের মৃত মকবুল হাওলাদারের ছেলে। শাহিন আলম শ্রীরামপুর গ্রামের শহিদুজ্জামান শহিদের ছেলে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফেরদাউসুর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজের অবস্থান জানান শাহিন।
সংবাদ সম্মেলনে ফেরদাউসুর রহমান বলেন, সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পারিবারিক নানা সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান না। এ কারণে তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগের মহারাজপুর ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেননি। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আলম বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পারিবারিক সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান না। এ কারণে স্বেচ্ছায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করিনি। তবে তাদের সমর্থকদের সঙ্গে চলাফেরা করতাম। কোনো রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করিনি এবং দলের কর্মীও ছিলাম না। একজন সমর্থক হিসেবে তাদের সঙ্গে ছিলাম। বর্তমানে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে সেই সমর্থন বা সম্পৃক্ততা বজায় রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমি স্বেচ্ছায় এ সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়ালাম।’
