ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

প্রতিবছর ভারতীয় উজানের পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ফেনীর মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে ফেনীবাসীকে রক্ষা করতে এবার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ অক্টোবর ফেনী সফরে এসে ‘ফেনী জেলাধীন পরশুরামের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা থাকলেও তা স্থগিত করে নতুন তারিখ ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পটি গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর প্রতিরক্ষা এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী তীরবর্তী এলাকার বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমবে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

২০২৪ সালের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বিশেষ করে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ মেরামতের কাজ করতে হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ফেনীবাসীর পক্ষ থেকে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়ে আসছিল। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সফর ঘিরে প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করে নিরাপত্তা ও অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি সমন্বয় করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলছে। এসব প্রস্তুতির তথ্য এর আগে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পোর্টেবল টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের মুহুরী নদীর তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পরে ফুলগাজীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, সোলার প্যানেল স্থাপন এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধনের প্রস্তুতির কথা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ অক্টোবর পরশুরাম ও ফুলগাজী সফরে আসবেন। তাঁর সফর ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরশুরাম বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপন বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে নদীভাঙন থেকে হাজারো মানুষ রক্ষা পাবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরশুরাম পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ বলেন, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমার পাশাপাশি এলাকার কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন