মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট নিয়ে সতর্কতার জবাবে পাল্টা কর্মসূচি সুস্থ প্রতিবাদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নৈতিকতা ও মূল্যবোধহীন রাষ্ট্র নয়। এটি একটি ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর দেশ; এ দেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। শালীনতা, পর্দাশীলতা, ভদ্রতা ও নৈতিকতা এ দেশের মানুষের কাছে নিছক ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; এগুলো আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অংশ।
তিনি বলেন, গণপরিবহন একটি উন্মুক্ত জনপরিসর। সেখানে নিজের স্বাধীনতা ও পছন্দের পাশাপাশি অন্য যাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও সম্মান দেখাতে হয়। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জনপরিসরে শালীন পোশাকের বিষয়ে কাউকে সতর্ক করলে সেটিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ পাল্টা প্রদর্শনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
ব্যক্তিস্বাধীনতা অবশ্যই সম্মানযোগ্য। কিন্তু ব্যক্তিস্বাধীনতা কখনোই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি ধর্মপ্রাণ সমাজে শালীনতার দাবিকে অস্বীকার করার প্রতীক হিসেবে জনসমক্ষে অশালীন পোশাককে দলবদ্ধভাবে প্রদর্শন করা কোনো সুস্থ প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এতে মতপার্থক্য নিরসনের পরিবর্তে সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি এবং মূল্যবোধের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করা হবে। আমরা চাই অধিকার ও দায়িত্ব, স্বাধীনতা ও শালীনতা এবং আইন ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ।
তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান, মেট্রোরেলসহ সকল গণপরিবহনে যাত্রীদের জন্য শালীনতা, সৌজন্য, পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।
পরিশেষে এ জাতীয় কর্মসূচি পরিহার করে সংযম ও দায়িত্বশীলতা এবং শালীনতার পরিচয় দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
