পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

সরকার আগামী ৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের যত্ন ও বিকাশের জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। পথশিশুদের জন্যও মন্ত্রণালয়ের একটি আলাদা বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

পথশিশুদের পুনর্বাসন ও তাদের উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের জন্য শুধু পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না, তাদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও এই সুযোগের আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা ইচ্ছা আছে, ৪ বছরের মধ্যে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ করার জন্য আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এবং সেজন্য আমাদের আলাদা প্রজেক্ট আছে। এই লক্ষ্যে আমরা আপনাদের সবার সযোগিতা চাই। আর এটার জন্য বিপুল যে বিনিয়োগের দরকার আছে, তা না কিন্তু মানসিকতার দরকার আছে।’

জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘শিশু একাডেমির মাধ্যমে শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চায় সরকার। শিশুদের বিকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে কাজ করছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো শিশু নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে না করে। রাস্তায় থাকা শিশু এবং পরিবারের শিশু সবার প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও বিকাশের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা চাই, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নামে যে কথাটি আমরা এখন ব্যবহার করছি, এই কথাটি আর কখনো যেন ব্যবহার করতে না হয়।’

এ সময় পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেটি সুরক্ষিত রাখা জরুরি। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে শুধু আইন থাকলেই হবে না, সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিশু একাডেমি বা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণসহ সব মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকবে।’

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর