কোচিং লাইসেন্স জালিয়াতিতে নাম এলো থিয়াগো সিলভার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

লাতিন আমেরিকার ফুটবলে এক বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার সাবেক সহকারী কোচ আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে ভুয়া কোচিং লাইসেন্স বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। থিয়াগো সিলভা ও ফেলিপে মেলোর মতো বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল ফুটবলারের নাম এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। যারা অফিসিয়াল নিয়ম বা ট্রেনিং ছাড়াই লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।   

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’ (UOL)-এর প্রতিবেদনের বরাতে গোলডটকম জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ে কোচিং যোগ্যতা দেওয়ার এই অবৈধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে থিয়াগো সিলভা ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ফেলিপে মেলোসহ বেশ কিছু বড় নাম। তারা এই প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক কোর্স না করেই ডিপ্লোমা বা লাইসেন্স পাওয়ার বিনিময়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার) দাবি করা হতো।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে মানকুসোকে নামিদামি ফুটবলারদের জন্য একটি ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ রুট নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, আমি আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে এমন এক চুক্তিতে পৌঁছেছি, যাতে যেসব তারকারা সারাজীবন ফুটবল খেলেছেন তাদের এই তিন বছরের অনলাইন কোর্স না করলেও চলে। কিন্তু সত্যি বলুন, যারা সারা জীবন ফুটবল খেললেন, তাদের কি সত্যিই তিন বছরের অনলাইন কোর্স করার দরকার আছে?

তবে বোকা জুনিয়র্সের সাবেক এই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় সরাসরি ভুয়া কাগজপত্র বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অনেক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় আমাকে ফোন করে, কারণ ব্রাজিলে আমি বেশ পরিচিত। তারা আমার কাছে জানতে চায় কীভাবে এই লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব। আমি কেবল তাদের ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগের নম্বরটি দিই। আমি ফেডারেশনের কেউ নই। তারা জানতে চাইলে আমি শুধু নিয়মগুলো জানিয়ে সাহায্য করি, এর বেশি কিছু নয়।

এদিকে বিতর্কে নাম আসা তারকারা ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। থিয়াগো সিলভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সিলভা কোর্সের জন্য অর্থ প্রদান করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্লাস করানো হয়নি এবং তিনি পরবর্তীতে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে বিষয়টিতে অনিয়ম টের পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এটিএফএ-র তথ্য সরিয়ে নেন এবং নিজের টাকা ফেরত নেন বলে জানিয়েছেন ফেলিপে মেলো।

বর্তমানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলো এই ভুয়া নথি ও জালিয়াতি চক্র সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে একটি যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।

সূত্র: গোলডটকম। 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন