ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বারইহাটি গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করে ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে তিন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আজিজুল হক পাগলা থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রধান ফটক ও ভেতরের গেটের তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে আজিজুল হকের মা, ভাগনি ও চাচাতো বোন ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তিন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে ঢোকেন। তাদের একজনের মুখ খোলা ছিল, অন্যদের মুখে গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘরে ঢুকে তারা পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগিয়ে গলায় ধারালো ছুরি ধরে জিম্মি করে। চিৎকার করলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও অন্যান্য আসবাবপত্র তছনছ করে মালামাল খোঁজেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা তিন ভরি পাঁচ আনা নয়, মোট সাড়ে তিন ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের গলার চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও এক জোড়া স্বর্ণের বালা নিয়ে যায়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য সাত লাখ টাকা। এ ছাড়া ঘরে থাকা নগদ চার লাখ টাকা, আট ভরি রুপা, দুই বছর ধরে মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা, ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন এবং ১ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের একটি টর্চলাইট লুট করা হয়। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে নরসিংদী পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত আজিজুল হক মুঠোফোনে খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন। তিনি এসে বাড়ির প্রধান ফটক ও ভেতরের গেটের তালা কাটা এবং ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
আজিজুল হক অভিযোগে আরও বলেন, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।’
