ছাত্রদলকে শুধু মিছিল-স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না: রিজভী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্ররাজনীতিকে শুধু মিছিল-মিটিং ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সমাজ, রাষ্ট্র, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান ও বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা অর্জন করতে হবে। মেধা, জ্ঞান ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলকে নিজেদের বিকশিত করতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে কমল-কুঁড়ি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতীয়তাবাদের বিকাশ নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আমরা সমাজ, রাষ্ট্র ও জগৎ সম্পর্কে জানার প্রথম পাঠশালা বলতে পারি। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, পাঠ্যসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। কিন্তু এর বাইরেও জানার অনেক কিছু রয়েছে। ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সমাজের পরিস্থিতি, রাষ্ট্রের অবস্থা, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে উপলব্ধি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন লেখাপড়ার পাশাপাশি রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কবিতা পাঠ, সংগীত ও খেলাধুলার মতো কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তখন তাদের চিন্তা ও মনন সমৃদ্ধ হয়। এসব চর্চা সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

রচনা প্রতিযোগিতায় ৭ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে তরুণদের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও মনন বিকাশে ভূমিকা রাখে।

২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটা সময় তরুণদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণেরা অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করে সেই হতাশাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তরুণদের শক্তি ও চেতনা যে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, ওই আন্দোলন তার প্রমাণ।

ছাত্রদলকে মেধাবীদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রদল হবে মেধাবীদের আধার। যারা দেশ ও রাষ্ট্রকে বোঝে এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের চর্চা করতে চায়, তারাই ছাত্রদল করবে।’ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পড়াশোনা, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রেমিট্যান্স বন্ধের আহ্বান সংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতি ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। রাজনীতিতে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রিজভী কমল-কুঁড়ির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক পরিবেশ সমৃদ্ধ করার জন্য এ ধরনের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন আহমেদ উজ্জ্বল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমল-কুঁড়ির আহ্বায়ক মো. আমানুল্লাহ আমান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন