‘আমার মনে হয়, আমিই সেরা। আমার চেয়ে ভালো কাউকে দেখিনি।’ ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে—এই বিতর্কে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। বিনয়ী কোনো কূটনৈতিক উত্তর নয়, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তার কাছে এই বিশ্বাস শুধু আত্মপ্রশংসা নয়; নিজের সামর্থ্য, অর্জন ও ফুটবলীয় পূর্ণতার মূল্যায়ন।
স্প্যানিশ সাংবাদিক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু এদু আগুয়েরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছিলেন রোনালদো। স্প্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল লা সেক্সতায় ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত সেই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর নতুন করে প্রকাশ করে সিএনএন পর্তুগাল। তাতেই আবার আলোচনায় এসেছে রোনালদোর পুরোনো দাবি—‘আমিই সর্বকালের সেরা।’
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো জানেন, তার এ বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক হবেই। কারণ, ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনায় লিওনেল মেসি, পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার নামও সমান গুরুত্বে উচ্চারিত হয়। সমর্থকদের পছন্দ ও মূল্যায়নের পার্থক্যও রয়েছে। কিন্তু অন্যদের মতামতের কাছে নিজের অবস্থান ছেড়ে দিতে নারাজ রোনালদো। কেন নিজেকে সবার ওপরে রাখেন তিনি? এর ব্যাখ্যায় নিজের বহুমুখী সামর্থ্যের কথা তুলে ধরেছেন পর্তুগিজ তারকা। দুই পায়ে গোল করার দক্ষতা, হেড, ফ্রি-কিক, গতি ও শারীরিক শক্তি—সবকিছুর সমন্বয় তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তিনি। তার যুক্তি, একজন পূর্ণাঙ্গ ফুটবলারের যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন, সেগুলোর সমন্বয়ই তাকে এই বিশ্বাস দিয়েছে। রোনালদোর এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অসংখ্য গোল এবং নিজেকে বারবার প্রমাণ করার অভিজ্ঞতা। তবে তার বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু অতীতের অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়। বয়স বাড়লেও নিজের সামর্থ্য নিয়ে তার বিশ্বাস অটুট—এটাই তার মানসিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সাক্ষাৎকারে হাজার ক্যারিয়ার গোলের মাইলফলক নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ১,০০০ গোলের লক্ষ্যকে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখলেও সংখ্যাটিকে ঘিরে অতিরিক্ত মাতামাতি তার পছন্দ নয়। তার বক্তব্য, ৯২০, ৯২৫ কিংবা ৯৩০ গোল করে ক্যারিয়ার শেষ করলেও নিজের অর্জন সম্পর্কে তার মূল্যায়ন বদলাবে না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ৯৮০ গোল করেছেন রোনালদো।
হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়া নিঃসন্দেহে বিশেষ কিছু হবে। কিন্তু রোনালদোর কাছে সেটিই সব নয়। তিনি চান, লক্ষ্যটি পূরণ হোক স্বাভাবিকভাবে—সংখ্যার প্রতি মোহ থেকে নয়, মাঠে নিজের সামর্থ্য ধরে রাখার মধ্য দিয়ে। ফুটবলকে বিদায় জানানোর দিন এলেও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অনুশোচনা থাকবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মনে করেন, এখনো মাঠে অবদান রাখার সামর্থ্য তার রয়েছে।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোর ক্যারিয়ার ঘিরে আলোচনা তাই শুধু রেকর্ডের হিসাব নয়; নিজের অবস্থান সম্পর্কে তার দৃঢ় বিশ্বাসও এর বড় অংশ। সৌদি ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলা এই তারকার সামনে হাজার গোলের লক্ষ্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ফুটবল ইতিহাসে নিজের জায়গা নিয়ে চলমান বিতর্ক।
সবাই তাকে সর্বকালের সেরা মনে করবেন না—এটাই স্বাভাবিক। মেসি, পেলে কিংবা ম্যারাডোনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সুযোগও শেষ হয়ে যাবে না। কিন্তু রোনালদো নিজের বিচারে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। ‘আমিই সেরা’—এ ঘোষণার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে।
তবে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস হারাতে রাজি নন রোনালদো। তার কাছে শ্রেষ্ঠত্ব শুধু অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয় নয়; নিজের অর্জনকে নিজের চোখে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখারও নাম।
