বিশ্বকাপের মতো আবারও বাংলাদেশকে ‘বোকা’ বানাল আফগানিস্তান!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আফগানিস্তানের গুলবাদিন নাইবের কীর্তি মনে আছে? চোটের ‘নাটক’ করে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। আবারও সেই ঘটনা ঘটাল আফগানিস্তান। এবারও সেই বাংলাদেশের বিপক্ষেই। ম্যাচের মোড় এবারও ঘুরে গেল। কাইস আহমেদের চোটের ‘নাটকে’ বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রায় হারতে থাকা টেস্ট ড্র করেছে আফগানিস্তান। লড়াকু মানসিকতা তো ছিলই, সঙ্গে একটু ‘নাটক’। দুই বছর পর আবারও ‘বোকা’ বনে গেল বাংলাদেশ।

আফগানদের বিপক্ষে টেস্টে ৪৭৯ রানের বিরাট লক্ষ্য রেখেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তান ২৪০ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। একা দাঁড়িয়ে লড়ে যান সিদিকুল্লা অটল। ৩৩২ বলে ১১১ রানের অদম্য ইনিংস খেলে যান। প্রশংসনীয় ব্যাটিং করেন টেলএন্ডাররাও। ৬০ বলে ৪ রান করেন ইসমাত আলম। ৮৫ বলে ১৯ রান করেন ইয়ামিন আহমাদজাই। রানের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলের সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কাইস আহমেদ। শেষমেশ ৮ উইকেট হারিয়েও টেস্ট ড্র।

শুধু লড়াকু ব্যাটিং নয়, ম্যাচের শেষদিকে ‘মাইন্ড গেম’ খেলেন কাইস। দিন শেষ হতে যখনও আর ১০ মিনিট। ওভার বাকি ৩। আফগানদের ৮ উইকেট পড়ে গেছে তখন। তাইজুল ইসলামের একটা বল আটকে হঠাৎ হ্যামস্ট্রিং ধরে বসে পড়েন কাইস। একটু পর খোঁড়াতে খোঁড়াতে পিচের বাইরে গিয়ে শুয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে মেডিক্যাল টিম। তার ফিট হয়ে ফের ব্যাটিংয়ে নামতে প্রায় ২ মিনিট চলে যায়। ওই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মুখ ছিল বিরক্তি ও হতাশায় ভরা। শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ ড্র করেন কাইস।

যা দেখে ভক্ত-সমর্থকদের মনে পড়ে যায় সেই ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গুলবাদিন নাইবের কাণ্ড। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচে রান তাড়া করছিল বাংলাদেশ। হঠাৎ পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়েন গুলবাদিন। বেশ কিছুক্ষণ তার চিকিৎসা চলে। তারপরই বৃষ্টি নামে। শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮ রানে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আফগানিস্তান।

এদিকে, আম্পায়ারের নির্দেশ অমান্য করে সময় নষ্ট করায় শাস্তি পেয়েছেন আফগানিস্তানের আফসার জাজাই। আইসিসির আচরণবিধির প্রথম স্তরের নিয়ম ভাঙায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

আইসিসির খেলোয়াড় ও খেলোয়াড়-সহায়ক কর্মীদের আচরণবিধির ২.৪ ধারা ভঙ্গ করেছেন জাজাই। আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি এই ধারার আওতাভুক্ত। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটিই তার প্রথম অপরাধ।

ম্যাচে দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলেন জাজাই। এ সময় মাঠে প্রবেশ না করতে এবং সময় নষ্ট করা বন্ধ করতে আম্পায়াররা তাকে একাধিকবার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেন তিনি। পরে ইনিংসের ১৩৯তম ওভারেও মাঠের আম্পায়ারদের অনুমতি ছাড়াই আবার মাঠে প্রবেশ করেন আফগান এই ক্রিকেটার। নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন জাজাই। আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারিদের প্যানেলের ডেভ গিলবার্টের দেওয়া শাস্তিও মেনে নেন তিনি। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

জাজাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন মাঠের দুই আম্পায়ার আহসান রাজা ও আলাউদ্দিন পালেকার, তৃতীয় আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব এবং চতুর্থ আম্পায়ার ইজতুল্লাহ সাফি। আইসিসির আচরণবিধির প্রথম স্তরের অপরাধে সর্বনিম্ন শাস্তি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে একজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা এবং এক বা দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হতে পারে।

কোনো খেলোয়াড় ২৪ মাসের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সেগুলো সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয়। দুটি সাসপেনশন পয়েন্ট হলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় তাকে। সেক্ষেত্রে একটি টেস্ট অথবা দুটি ওয়ানডে কিংবা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকেন তিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন