ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭ জন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) হাসপাতালের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
মারা যাওয়া তিনজন হলেন- ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী হারিছা বেগম, নান্দাইল উপজেলার ১৮ বছর বয়সী মিনহাজ এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ৪৫ বছর বয়সী মরিয়ম।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হারিছা বেগম ৮ অক্টোবর রাত ২টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই দিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসজনিত কিটোঅ্যাসিডোসিসের সঙ্গে ডেঙ্গুর কারণে রক্তক্ষরণজনিত শকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নান্দাইলের মিনহাজ ৭ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ৮ অক্টোবর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে জটিল ডেঙ্গু পরিস্থিতি, ডেঙ্গু সংশ্লিষ্ট রক্তক্ষরণজনিত জ্বর এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মরিয়ম ৮ অক্টোবর রাত ১টা ৩৩ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডেঙ্গু জ্বরের সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহজনিত প্রতিবন্ধকতার কারণে সৃষ্ট স্ট্রোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী এবং ১১ জন শিশু।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ হাজার ৫১২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন ডা. মো. সেলিম উদ্দিন জানান, হাসপাতালে বর্তমানে ১২৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এক দিনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগীদের চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জানান তিনি।
মাইনউদ্দিন খান বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এক হাজার শয্যার হওয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য জায়গা ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সংকট হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো অংশকে আইসোলেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
