ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সরকারের জন্য ‘লিটমাস টেস্ট’ বলে মন্তব্য করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা পরিমাপ করা হবে। এ নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম, শক্তি প্রয়োগ বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে দলটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের অধীনে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কতটা সুষ্ঠু ও অবাধ হবে, তা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আগামী নির্বাচনগুলোতেও সরকারের ওপর আস্থা রাখা হবে। আর এ নির্বাচনে শক্তি প্রয়োগ, জালিয়াতি বা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হলে রাজনীতি আরও একটি অস্থির মাত্রায় প্রবেশ করবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নেতা বলেন, নির্বাচনটি আদর্শ মানে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি দলের কেউ যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের চেষ্টা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঠাকুরগাঁও সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফজলে বারী মাসউদ বলেন, তিনি সেখানে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সময় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ দেখেছেন বলেও জানান তিনি। গত জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের ভোটে ‘নয়-ছয়’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দলটির প্রাপ্ত ভোটের যথাযথ প্রতিফলন ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে সরকারকে আগাম সতর্ক করে তিনি বলেন, যে প্রার্থী যত ভোট পাবেন, ঘোষিত ফলাফলে তার যথাযথ প্রতিফলন থাকতে হবে। ভোট গণনায় কারচুপি করার কোনো চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে নির্বাচন কমিশনের জন্যও পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীন ও আত্মপ্রত্যয়ী ভূমিকা পালন করতে পারে, তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেখা যাবে।
নির্বাচনকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনটি আদর্শ মানে সম্পন্ন করতে হবে।
