এ যেন প্রতিপক্ষের পোস্টে গোলবন্যা। ৯-১ গোলের অবিশ্বাস্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস গড়েছে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। ফরাসি ক্লাব লঁসকে তাদেরই ঘরের মাঠে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে তারা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে লঁসের স্টেডিয়াম বোলায়ের্ত-দেলিলিসে স্বাগতিকদের ৯-১ ব্যবধানে হারিয়েছে কোমো। স্প্যানিশ কোচ সেস্ক ফাব্রেগাসের কোচিংয়ে এই নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয়টি ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখল দলটি।
প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে আসা কোমোর পথচলা শুরু থেকেই নজরকাড়া। প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে সেরা আটের দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে ছিল তারা। এবার লঁসের মাঠে সেই দাপট আরও একধাপ বাড়িয়ে প্রথমার্ধেই তিন গোল আদায় করে নেয় অতিথিরা।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কর্নার থেকে আসে প্রথম গোল। মাক্সিমো পেরোনের হেড থেকে বল পেয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন আনাস্তাসিওস দুভিকাস। ৩২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পূরণ করেন এই গ্রিক স্ট্রাইকার। অ্যালেক্স ভাইয়ের বাড়ানো হেডে বক্সে বল পেয়ে দুভিকাসের নেওয়া শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ৪০ মিনিটে দুভিকাসের অ্যাসিস্টে চমৎকার ফিনিশিংয়ে কোমোকে ৩-ও গোল এগিয়ে দেন নিকো পাস।
বিরতির পর আরও ছয়বার লঁসের জাল কাঁপায় কোমোর খেলেয়াড়েরা। দ্বিতীয় অর্ধে খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় পাসের থ্রু পাস থেকে ওয়ান-টাচ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন লুকা দা কুনহা।
ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেলেও আক্রমণের ধার কমায়নি ফাব্রেগাসের শিষ্যরা। ৫৩ মিনিটে অলিম্পিয়ার ক্যাম্প পঞ্চম এবং এর চার মিনিট পর দুভিকাস হ্যাটট্রিক পূরণ করে দলকে ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মার্তিয়া লিবারালি করেন সপ্তম গোল।
৬৫ মিনিটে লঁসের হয়ে রুবেন আগিলার একটি গোল শোধ করলেও তার চার মিনিট পর বদলি খেলোয়াড় মার্তিন বাতুরিনা কোমোর অষ্টম গোলটিটি করেন। ম্যাচটি ৮-১ ব্যবধানে শেষ হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তবে অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে মাত্তেও পাপাকিওনি শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলে ৯-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোমো।
কোমোর ক্লাব ইতিহাসে এই অনবদ্য রাতটি নিশ্চয় সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে।
