লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো কেবল দুটি কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের ইতি ছিল না। এটি আধুনিক ফুটবলের এক অনন্য যুগের যবনিকাপাত ঘটিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই মহাতারকা যেসব রেকর্ড ও কীর্তি রেখে গেছেন, তা স্পর্শ করা যে কোনো ফুটবলারের জন্য রূপকথার মতো। তবে ফুটবলের সাম্রাজ্যে মেসি-রোনালদোর এই অনুপস্থিতির পর শূন্যতা পূরণে আবির্ভূত হয়েছেন নতুন চার তারকা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পর্তুগিজ ও আর্জেন্টাইন দুই আইকনের ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন চার ‘দানব’। এরা হলেন- কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হাল্যান্ড, হ্যারি কেইন এবং লামিনে ইয়ামাল।
পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে বিদায় নেওয়া রোনালদোর নামের পাশে রয়েছে ইউরো ও দুটি নেশনস লিগ শিরোপা। অন্যদিকে, ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করা মেসি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা।
এই দুই ফুটবল রাজার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান ভাঙার দৌড়ে এই মুহূর্তে চার ফুটবলার।
আর্লিং হাল্যান্ড (নরওয়ে)
২৬ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেন এক ধ্বংসাত্মক গোল মেশিন। নরওয়ের হয়ে মাত্র ৫৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৬৫টি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রায় প্রতি ৭১ মিনিটে একটি করে গোল করা এই তারকা ইতোমধ্যে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ২৮ বছর পর নরওয়েকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করিয়েছেন।
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি অধিনায়ক ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ১০৭ ম্যাচে ৬৭ গোল ও ৪০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে অলিভিয়ে জিরুকে টপকে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিন আসরে সর্বমোট ২২ গোল করে এককভাবে শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় থাকা এমবাপ্পেই মেসি-রোনালদোকে স্পর্শ করার সবচেয়ে বড় দাবিদার।
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)
৩৩ বছর বয়সেও গোলের ধারাবাহিকতায় অনবদ্য ইংলিশ অধিনায়ক। দেশের হয়ে ১২৫ ম্যাচে ৯১ গোল করে ওয়েন রুনির (৫৩) থেকে বহুদূরে গিয়ে ইংল্যান্ডের শীর্ষ গোলদাতার স্থান দখল করেছেন তিনি। তবে পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ হলেও কেইনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ট্রফি যুক্ত হয়নি।
লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)
মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা এই বার্সেলোনা বিস্ময় দীর্ঘমেয়াদি রেকর্ডের দৌড়ে সবচেয়ে বড় বাজি। ইতোমধ্যে স্পেনের হয়ে ৩৬ ম্যাচে ১১ গোল ও ১৩টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি জেতেন ইউরো ২০২৪ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ শিরোপাও। এত কম বয়সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে ইতিহাস নতুন করে লেখার সবচেয়ে বেশি সময় রয়েছে তার হাতেই।
সূত্র: এএস
