আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস : নিস্তব্ধতার দিন পেরিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির বার্তায় গণতন্ত্রের নতুন সকাল

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

​১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস কেবল একটি তারিখ নয়;এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও মৌলিক নাগরিক অধিকারের বিশ্বজনীন স্মারক।তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই পথ কোনো সহজ বিষয় ছিল না।একের পর এক প্রহসনের নির্বাচন,ভোটাধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একচেটিয়া দলীয়করণের মধ্য দিয়ে বিগত দেড় দশকে দেশে তৈরি করা হয়েছিল এক ভয়াবহ নিস্তব্ধতার শাসন।ভিন্নমত দমন,মুক্তচিন্তাকে অবরুদ্ধ করা এবং নাগরিকদের কথা বলতে না দেওয়ার মধ্য দিয়ে পুরো সমাজকে এক চরম ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতিতে বন্দি করা হয়।

​নিস্তব্ধতার রাজত্ব ও দীর্ঘ রাজপথের লড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,দলীয় প্রশাসন এবং একাধিক কালো আইনের ভীতি ছড়িয়ে দেশে সব ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।তবে এই অবরুদ্ধ সময়ের বিরুদ্ধে রাজপথে অবিচল লড়াই চালিয়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দেশের সর্বস্তরের আন্দোলনকামী ছাত্র-জনতা।বিগত ১৭ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা,কারাবরণ,গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও বিএনপি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবি ছেড়ে দেয়নি।দলটির এই দীর্ঘ ত্যাগের রাজনীতি ও তৃণমূলের সক্রিয় উপস্থিতিই পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পটভূমি প্রস্তুত করে।

​১২ ফেব্রুয়ারি ও ব্যালট বিপ্লবের বার্তা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক মোড় এনে দেয়।দীর্ঘ সময় পর ভীতিহীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের ১৭ বছরের জমাটবদ্ধ ক্ষোভ ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় ব্যালট বাক্সে।​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।রাজনৈতিক মামলা ও নিস্তব্ধতার দিনগুলোতে রাজপথের সংগ্রাম ধরে রেখে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ব্যালটের মাধ্যমে দলটি অভাবনীয় ম্যান্ডেট লাভ করে।বিএনপি ২০৯টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমেই বাংলাদেশে গণমানুষের শাসনের সূচনা ঘটে।

প্রতিহিংসাহীন জাতীয় ঐক্য ও সুশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, এই ঐতিহাসিক বিজয় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয় ; বরং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রতিহিংসার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠন এবং নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করার সংস্কার কার্যক্রম বর্তমানে দৃশ্যমান।

​আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের মানুষ আজ আর বাকরুদ্ধ নয় ; তারা নিজেদের অধিকার ও দেশের রূপান্তরের সক্রিয় অংশীদার।১৭ বছরের আত্মত্যাগ,শহীদদের রক্ত এবং ১২ ফেব্রুয়ারির স্বতঃস্ফূর্ত গণরায়ের ওপর দাঁড়িয়ে যে গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হয়েছে,তাকে টিকিয়ে রাখাই এখন নতুন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।গণতন্ত্র কেবল একদিনের ভোট দেওয়া নয়—এটি প্রতিদিন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের স্বাধীনতা রক্ষার এক নিরবচ্ছিন্ন চর্চা।

রাহীক খান চৌধুরী
যুব প্রধান, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন