খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনশিল্প, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং শিক্ষা খাতে আসিয়ান ও রাশিয়ার মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
রাশিয়ার তাতারস্তানের রাজধানী কাজানে অনুষ্ঠিত আসিয়ান-রাশিয়া বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজার বহুমুখীকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এসব খাত আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক আস্থা জোরদার এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আসিয়ান দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতি, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও আসিয়ান অসাধারণ স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে। অঞ্চলটি এখনও বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে, অর্থনৈতিক সংহতি গভীর করছে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
ফোরামে রাশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ৪০০-এরও বেশি করপোরেট ও ব্যবসায়িক নেতা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তব্যে আনোয়ার আরও বলেন, উন্মুক্ততা, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহযোগিতার নীতির প্রতি আসিয়ান অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রায় ৭০ কোটি মানুষের এই জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং একই সঙ্গে নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতাও বজায় রেখেছে।
তিনি বলেন, আসিয়ান ও রাশিয়া এখনো একে অপরের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার নয়। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা অত্যন্ত ব্যাপক।
বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ও সরকারগুলো ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা, বিভাজন এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জের এই সময় একই সঙ্গে নতুন সম্ভাবনারও দুয়ার খুলে দেয়। আমাদের লক্ষ্য শুধু পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো নয়, বরং এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা যেখানে স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা এবং সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশ এককভাবে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়; এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গত সাড়ে তিন দশকে আসিয়ান-রাশিয়া অংশীদারিত্ব ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতা এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দুই দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বর্তমানে রাশিয়ার কাজান সফর করছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ১৭-১৮ জুন অনুষ্ঠিত আসিয়ান-রাশিয়া স্মারক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি যোগ দিচ্ছেন। সফরকালে তার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাশিয়া সরকার, তাতারস্তান কর্তৃপক্ষ এবং আসিয়ান-রাশিয়া বিজনেস কাউন্সিলকে উষ্ণ আতিথেয়তা ও সম্মেলনের আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
