এক বছর বেতন বাড়বে না অতিরিক্ত সচিব মেহেদী হাসানের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ এএম

অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। শাস্তি হিসেবে তার এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, তার ১ বছর ৬ মাস ৩ দিনের অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময়কে অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অতিরিক্ত সচিব মেহেদী হাসান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর তিনি ওয়াশিংটনে যোগদান করেন। চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর তিনি সন্তানের শিক্ষা সেশন সম্পন্ন করা ও চিকিৎসার সুবিধার্থে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ তার আবেদন নামঞ্জুর করে দেশে ফিরে যোগদানের নির্দেশ দেয়।

২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তাকে ওয়াশিংটন দূতাবাস থেকে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান না করে তিনি ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন করেন। পরে অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করে ১ বছর ৬ মাস ৩ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর ২০২৫ সালের ১৯ জুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদানপত্র জমা দেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত বোর্ড ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা উভয় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তানের শিক্ষা সেশন সম্পন্ন করা ও চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করায় তার ক্ষেত্রে লঘুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ৪(২)(খ) বিধি অনুযায়ী তাকে এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৮ জুন পর্যন্ত (১ বছর ৬ মাস ৩ দিন) তার অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করা হবে। এ সময়ের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা তিনি পাবেন না এবং ওই সময় বেতন বৃদ্ধির জন্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হবে না। তিনি ভবিষ্যতে ওই সময়ের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্য হবে না এবং ওই মেয়াদ বেতন বৃদ্ধির জন্য গণনাযোগ্য হবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন