কওমি মাদ্রাসায় মনিটরিং সেল, হটলাইন ও শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে মনিটরিং সেল, অভিযোগ জানানোর হটলাইন এবং শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তারা এ নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। যেকোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে জরুরি।

তারা আরও বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন একটি পুরোনো সামাজিক সমস্যা। এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্কুল, মাদরাসাসহ বিভিন্ন পরিসরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধ করতে এ বছরের গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ৬টি কওমি মাদরাসা বোর্ড এবং এর আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে প্রতিটি মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের যেকোনো অভিযোগ সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া, মাদরাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে যে, কোনো মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে, অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেটির অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ জন্য স্কুল ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে সব স্কুল ও মাদরাসাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নৈতিক পদস্খলনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা আপসের সুযোগ নেই।

তারা আরও বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন