কুরবানির চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে সোমবার (১১ মে) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।

সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাটস্থ এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন লিখিত বক্তব্যে বলেন, কওমি মাদরাসাগুলোর অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস ছিল কুরবানির পশুর চামড়া। কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চামড়ার বাজার ধসে পড়ায় এখন সেই চামড়া সংগ্রহ করাই মাদরাসাগুলোর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৩ সাল থেকে চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করার মতো নীতির কারণে বাজারে দরপতন শুরু হয়। ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী এই শিল্প আজ প্রায় অকার্যকর অবস্থায় পৌঁছেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কওমি মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচও তুলতে পারছে না। ফলে এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পরিচালন ব্যয় নির্বাহে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তার সুফল পাওয়া যায়নি। কাঁচা লবণ বিতরণ করা হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়ও চামড়া শিল্প নিয়ে দৃশ্যমান কোনো রূপরেখা নেই। সরকার এখনো চামড়া বাণিজ্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে কুরবানির সময় সংগৃহীত মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসাগুলোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই খাত অবহেলার শিকার হওয়ায় মাদরাসাগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে রয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, “দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার বড় একটি দায়িত্ব পালন করছে কওমি মাদরাসাগুলো। তাই চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তবে ভবিষ্যতে সরকার যদি কার্যকর উদ্যোগ নেয় এবং চামড়া শিল্প ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর