ঢাকার সাভারে মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় ৭০ বছর বয়সী আলী জানকে মারধরের পর একটি অফিসে আটকে রেখে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে সাভারের বেড়াইদ পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আলী জানের জামাতা মো. হাবিব সাভার মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বেড়াইদ পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি আলী জানকে ঘিরে ধরেন। পরে তাকে একটি অফিসে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় রামদা, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার জামাতা।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে আলী জানের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন হামলাকারীরা। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে তার বাম বাহুতে গুরুতর কাটা জখম হয়। এছাড়া চাপাতি দিয়ে বাম পায়ের নলিতে এবং লোহার রড দিয়ে ডান পায়ের নলিতে আঘাত করা হয়। তার বাম হাঁটুতেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হামলার সময় আলী জানের পাঞ্জাবির পকেট থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তার জামাতা। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আলী জানকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন বাবুল মিয়া (৫০), আলিফ (৪০), তসলিম (৫৫), ইয়াছিন (৪৮), লাল চান (৪৫), জাবেদ (৩৮), ফারুক (৪৮), মোস্তফা (৫৬), আজিজ (৬০), শামীম (৫৫), সাইফুল (৪০) ও সোহাগ (৪০)।
আলী জানের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আহত বৃদ্ধের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার পর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
