ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ বাজারে আবারও আগুনের তাণ্ডব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনসহ পুড়ে গেছে ১৯টি দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ও পুঁজি ছাই হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পথে বসার শঙ্কায় তারা। বারবার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাচ্ছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন নুরুল আমিন (রবিন), মাইফুল, নিজাম উদ্দিন, আবদুল কাদের (মিনার), মোস্তফা, সামছুল হক, মিন্টু, আবুল খায়ের ও এমরান হোসেনসহ অনেকে। এসব দোকানের আয়েই চলত তাদের পরিবারের সংসার। ব্যবসার পুঁজি ও মালামাল হারিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ধারণা, একটি মুদি দোকানের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বেশিরভাগ দোকান পুড়ে যায়।
পরশুরাম ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বক্সমাহমুদ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মিনার কালবেলাকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত পৌঁছানোয় অনেক দোকান আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া কালবেলাকে বলেন, হঠাৎ এভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বক্সমাহমুদ বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের গোলাম আজম মার্কেটে আগুনে বীজ, চা ও মুদি দোকানসহ আটটি দোকান পুড়ে যায়।
এরও আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে মামুন ও জসিম পাটোয়ারী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওষুধ, মুদি, আসবাব ও স্বর্ণের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে পুঁজি হারিয়ে বিপাকে পড়ছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ আগুনে ১৯টি দোকান পুড়ে যাওয়ায় তাদের সেই সংকট আরও গভীর হয়েছে। বারবার এমন ক্ষয়ক্ষতির পরও বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
