ব্যাডমিন্টনে বৈষম্য বাড়ছে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

কোর্টে শাটল ককের গতি তীব্রতার আগে শিরোনামে বৈষম্য—নারী পুরুষ সংখ্যায়, পুরস্কারের অঙ্কেও সেটা পরিষ্কার হয়ে ফুটে উঠছে। আজ শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে থাকছে শূন্যতার আক্ষেপও—পুরুষ র‌্যাংকিংয়ের ওপরের দিকের দুজনকে দেখা যাবে না এবারের আসরে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোরে আজ শুরু হতে যাওয়া আসরে ৫৩৫ জন পুরুষ শাটলারের বিপরীতে অংশ নিচ্ছেন মাত্র ৮১ জন নারী। জেলা-বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা মিলিয়ে মোট ৮৮ দল লড়বে শিরোপার জন্য। আয়োজনের শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রে অনুপস্থিত দুই তারকা। চোটের কারণে খেলছেন না গত আসরের চ্যাম্পিয়ন খন্দকার আব্দুস সোয়াদ এবং ‘মিস্টার মেশিন’ খ্যাত ছোটন। পুরুষ র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ সারির এই দুজনকে ছাড়াই মাঠে গড়াচ্ছে প্রতিযোগিতা।

ব্যবধান শুধু অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়েছে পুরস্কারের অঙ্কেও। পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল পাবেন যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ও ১ লাখ টাকা। নারীদের বেলায় সেই অঙ্ক নেমে এসেছে ১ লাখ ও ৬০ হাজারে। অথচ ব্যাডমিন্টনে নগদ পুরস্কারের প্রচলন বেশিদিনের নয়। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এলিনা সুলতানার ভাষ্য, ‘দীর্ঘদিন এই খেলায় প্রাইজমানি ছিল না; গত আসর থেকে এমন বড় অঙ্কের পুরস্কার চালু হয়েছে, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।’ সাবেক এই শাটলারের প্রত্যাশা, সামনের দিনে নারী-পুরুষ সমান পুরস্কার পাবেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কারের এই পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

এই বৈষম্য নতুন নয়। অতীতেও চিত্রটা প্রায় একই ছিল। বিগত দিনে নারী শাটলারদের ঘিরে কর্মকর্তাদের নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যার ছায়া পড়ছে জাতীয় আসরে। নারায়ণগঞ্জ জেলা দলের কোচ ও সাবেক শাটলার অহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা একাডেমিগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শাটলার নিজেদের প্রস্তুত করছেন। তার পরও জাতীয় আসরে তাদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত না হওয়ার কারণ, অভিভাবকরা মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এই চিত্র বদলাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

আয়োজনের অন্য দিকগুলোও উঠে এসেছে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান শাকিলের কথায়। সব ইভেন্ট মিলিয়ে এবারের মোট পুরস্কারমূল্য ১০ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের জন্য রাখা হয়েছে একটি ইলেকট্রনিক বাইক।

ইনডোরের পুরোনো সমস্যাও আছে। টেবিল টেনিস কিংবা ব্যাডমিন্টনের আসর মানেই এখানে বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জটিলতা। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিলের ভাষ্য, ‘আলো এখন পর্যাপ্ত; কিছু লাইটের ত্রুটি সারিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এসির সমস্যা বহুদিনের, প্রয়োজন সেন্ট্রাল এসি। ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ব্যয়ের হিসাবেও রয়েছে বড় পরিসর। এবার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা মিলেছে। শাকিল জানান, শাটলারের সংখ্যা ৬০০-র বেশি। আবাসন ও শাটল ককেই যাচ্ছে খরচের সিংহভাগ। সব মিলিয়ে বাজেট প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

বাইরের নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে ঘরের মেয়েরা কীভাবে আসবেন কোর্টে! পুরস্কারের অঙ্ক সমান করা হয়তো সহজ, কিন্তু অভিভাবকদের আস্থা ফেরানোর পথটি তার চেয়ে দীর্ঘ। সেই আস্থার ওপরই নির্ভর করছে, আগামী আসরে ৮১ সংখ্যাটি কতটা বাড়বে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন