আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য এসেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী দেশ ব্রাজিল। একই সঙ্গে বিশ্বের উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ব্রিকস’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার ঐতিহাসিক ‘পালাসিও দো প্লানালতো’তে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকের শুরুতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম। বর্তমান বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ গ্লোবাল সাউথের একটি উদীয়মান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘ ৫৩ বছরের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে ব্রাজিলই প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় দুই দেশের এই সম্পর্ক এখন কেবল সাধারণ বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা একটি বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে।
বৈঠকে দুই নেতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের সংহতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই বৈঠকের অন্যতম বড় অর্জন ছিল দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। ব্রাজিলের উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম দুই দেশের উপদেষ্টা পর্যায়ে নিয়মিত একান্ত বৈঠকের জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম বা ‘টেট-অ্যা-টেট স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও কৌশলগত সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রাজিলের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, এই ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমন্বয় এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও মজবুত হবে।
