দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রবীণ নাগরিকের এক বিশাল অংশ বর্তমানে চরম একাকিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সার্বিক সুরক্ষার অভাব, কর্মহীনতা এবং দারিদ্র্যের কারণে প্রবীণদের জীবনযাপন আজ মানবেতর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে মাত্র ২৩ লাখ প্রবীণ নাগরিককে মাসে ৬৫০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে প্রবীণদের মর্যাদা রক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়াতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)’।
জার্মান ইকনোমিক কো-অপারেশন (বিএমজেড) এবং হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় রিক ‘আইএসআইজিওপি’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ঢাকার খিলগাঁও, নরসিংদী সদর ও পলাশ এবং পিরোজপুর সদর উপজেলায় এই কার্যক্রম চলছে। এই চার এলাকার ৪৮টি ‘আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের’ মাধ্যমে প্রায় ২,৪০০ জন নবীন ও প্রবীণ সদস্যকে একত্রিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু দুর্যোগে প্রবীণ নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নবীন ও প্রবীণরা একসঙ্গে কাজ করছেন, যা প্রবীণ সমাজে নতুন প্রাণের স্পন্দন এনে দিয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘আন্তঃপ্রজন্ম নীতি-নির্ধারণী বিষয়ক জাতীয় কনসালটেশন সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে সভায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশজুড়ে এই ধরণের ক্লাব গঠন এবং প্রবীণদের সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। একই সাথে তারা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল কর্মসংস্থান, পরিবহন সুবিধা, আইনি সহায়তা এবং প্রবীণদের জন্য একটি সঠিক ডাটাবেজ তৈরির দাবি জানান।
সভায় প্রধান অতিথি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, সীমিত সম্পদ দিয়ে বিপুল পরিমাণ প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা দেওয়া বেশ কঠিন। তবে সরকার দেশের আটটি বিভাগে শান্তি নিবাস ও শিশু পরিবার পাশাপাশি রেখে প্রবীণদের পারিবারিক আবহে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান বলেন, দেশে সম্পদের চেয়ে সুষ্ঠু বণ্টনের অভাব বেশি। দুর্নীতি দূর করা গেলে প্রবীণদের আরও বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব। তিনি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের কর্মচাঞ্চল্যের সমন্বয়ে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান। পরিশেষে, যৌথ পরিবারের ধারণা ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে সবাই একমত পোষণ করেন।
