দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও সাশ্রয়ী করতে বিদ্যুৎচালিত বা ইলেকট্রিক বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মূলত জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখেই শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন। তবে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২৭ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে, স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে এখন থেকে কোনো ধরনের শুল্ক বা কর দিতে হবে না। এর মধ্যে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজে কিংবা তাদের হয়ে অন্য কোনো সংস্থা এই বাস আমদানি করলেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে শুল্কমুক্ত এই বাসের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে এনবিআর। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমদানিকৃত এসব বাসের রং অবশ্যই উজ্জ্বল হলুদ হতে হবে। এছাড়া বাসের গায়ে ‘স্কুল’, ‘কলেজ’ বা ‘স্টুডেন্ট বাস’ শব্দগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে যাতে সহজেই এটি শনাক্ত করা যায়। এই সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে এনবিআর জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদনের ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই শুল্কমুক্ত আমদানির প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করা হবে।
সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনেক কম খরচে উন্নত মানের পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড় কমায় যানজটও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের পকেটের খরচও অনেক কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত বাসের ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানোর বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা পরিবেশ দূষণ কমিয়ে শহরগুলোকে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমিয়ে আনবে।
