রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার ভয়ে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা কোনোদিন দেননি বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ ড্রাফট করে নিয়ে গেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন—‘‘আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলার আসামি বানাইতে চাও?’’ স্বাধীনতার ঘোষণা শেখ মুজিব কোনোদিন দেননি, উনি ছিলেন ভীতু। আর তার মেয়ে হচ্ছে মহাভীতু। বাপ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে পালিয়েছিল। তার মেয়ে শেখ হাসিনা ইন্ডিয়াতে পালিয়ে গেছে, সে কোনোদিন আর বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারবে না।’
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে দোয়া শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ২০৩০ ভিশন এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
আউয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। মশিউর রহমান জাদু মিয়া যখন মাওলানা সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখন জিয়াউর রহমান সম্বন্ধে উনি তিনটা শব্দ ব্যবহার করেছিলেন যে, জিয়াউর রহমান ভালো, সৎ এবং দেশপ্রেমী। আজও পর্যন্ত সেই জিয়া পরিবার, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, পরবর্তীতে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তারা ভালোর প্রতীক, তারা সততার প্রতীক। তারা দেশপ্রেমিকতার প্রতীক।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার অপকর্মের জন্য আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্যরি পর্যন্ত বলে নাই। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা অপেক্ষা করছে—হাসিনা আসবে, ফাঁসির দড়ি গলায় নিয়ে তারা যাবে এবং হাসিনাকে ফাঁসি দিয়ে করে তারা ঘরে ফিরবে।’
এখন দেশ গড়ার উত্তম সময় এমন মন্তব্য করে আউয়াল বলেন, ‘আমাদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, সেনা এবং জনতা সে সময় স্লোগান ছিল—‘‘সেনা-জনতা এক, ষড়ষযন্ত্র রুখে দাও’’। সেই সময় সেনা-জনতা যেমন এক হয়েছিল, সমগ্র বাংলাদেশ ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের সময় এক হয়েছিল। ৭৫-এর সেই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহানায়ককে উদ্ধার করেছিল। এবং বাংলাদেশের যদি বলা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের সেই প্রথম পরবর্তী স্বাধীনতার পরবর্তীতে মুক্তি, সেই মুক্তি মিলেছিল এই ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দিন।’
তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিব বাংলাদেশকে দেখিয়েছিল পাঁচ সালের রাজনীতি, শেখ মুজিব বাংলাদেশকে দেখিয়েছিল প্রথম গুম-খুনের রাজনীতি। তার বিপরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় উপহার দিয়েছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন।’
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখনো দেখতেছি অনেকের বাংলাদেশের স্বাধীনতা পছন্দ হয় না। আছে না অনেকের? যে আছে না অনেকে যাদের মন ভালো নেই, আজকে তাদের মন ভালো নাই। কারণ দেশ আগায়ে গেলেই তাদের মন খারাপ হয়। আজকে যারা আপনি দেখবেন প্রত্যেকটা জায়গায় যারা মব করছে এবং বিরোধী দলে যারা আছে, আজকে তাদের বোনরাও তাদের কাছে নিরাপদ নয়। জামায়াত ইসলামীতে দেখলাম তাদের একটা কমিটি আছে সেখানে কোনো নারীর কোনো নাম নাই। তো আমাদের নারী বিবর্জিত সেই জামায়াত-এনসিপির ওপরও ভর করছে। অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে বাদ দিয়ে ভবিষ্যতে যদি কোনো তারা আগাতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন তাদেরকে আগানোর সুযোগ দিবে না।’
