ষাট পেরিয়েও বলের পিছু ছোটা, এক বিকেলে শৈশবে ফিরলেন গ্রামের মুরুব্বিরা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

বয়স কারও ৬০, কারও ৬৫, আবার কেউ ৭০-এর ঘরে। মাথার চুল সাদা, হাঁটায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু ফুটবল মাঠে বাঁশি বাজতেই যেন সব বদলে গেল। কেউ বল নিয়ে ছুটছেন, কেউ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কাড়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ গোলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণপণ রক্ষণে ব্যস্ত। ক্লান্তিতে হাঁপিয়ে উঠলেও মুখে লেগে আছে শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। দেখে বোঝার উপায় নেই, এঁদের বেশির ভাগই নাতি-নাতনির দাদা।

চারদিকে তখন উৎসবের আমেজ। ফাঁকা ধান ক্ষেতের খোলা মাঠের চারপাশে শত শত মানুষ। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ আইলের ওপর বসে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় জায়গা করে নিয়েছেন। মাঠের এক পাশে ড্রামসেট আর কিবোর্ডের তালে তালে বাজছে মিউজিক। আর সেই সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতালি, হাসি আর উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের ফসলি মাঠে এমনই এক ব্যতিক্রমী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে বাড়াকান্দি মধ্যপাড়া একতাবন্ধ ক্লাব। খেলায় অংশ নেন ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১৮ জন প্রবীণ। তাঁদের নিয়ে গড়া হয় দুটি দল সিলভার স্টার ফুটবল একাদশ ও প্রজাপতি ফুটবল একাদশ। ম্যাচ পরিচালনা করেন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকুল হোসেন।

খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে মাঠ। বয়সের ভারে দৌড়ের গতি কমলেও জয়ের আকাঙ্ক্ষায় কোনো ঘাটতি ছিল না খেলোয়াড়দের। বলের পিছু ছুটতে গিয়ে কেউ পড়ে যাচ্ছেন, আবার সতীর্থের হাত ধরে উঠে দাঁড়িয়ে নতুন করে খেলায় ফিরছেন। প্রতিটি মুহূর্তে যেন ফিরে আসছিল বহু বছর আগের গ্রামের সেই বিকেলগুলো, যখন ফুটবল ছিল বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

আরেক দর্শক সায়েম বলেন, প্রতি বছর এমন আয়োজন হওয়া উচিত। এতে মুরুব্বিদের যেমন ভালো লাগে, তেমনি গ্রামের মানুষও একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ পায়।

আয়োজক বাড়াকান্দি মধ্যপাড়া একতাবন্ধ ক্লাবের তামিম রেজা বলেন, মুরুব্বিরাই আমাদের কাছে ফুটবল খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই আয়োজন। সবাই যেন উৎসবের আনন্দ পায়, সে জন্য ড্রামসেট ও কিবোর্ডের ব্যবস্থাও করেছি। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করতে চাই।

সন্ধ্যা নামার আগে খেলা শেষ হয়। বিজয়ী–পরাজিতের ঘোষণা হয়, পুরস্কারও দেওয়া হয়। কিন্তু মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, এদিন আসলে কেউ হারেননি। কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও বয়সকে হারিয়ে, সংসারের চিন্তা ভুলে, আবারও শৈশবকে ছুঁয়ে দেখেছেন গ্রামের প্রবীণ মানুষগুলো। আর সেই দৃশ্যই সবুজ মাঠে উপস্থিত শত শত দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছে এক টুকরো নির্মল আনন্দের স্মৃতি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর