একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়েছেন মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফকির আবু বকর সিদ্দিক। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মেলান্দহ পৌরসভা সংলগ্ন নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এক সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া ঘোষণায় আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজ থেকে আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের কেউ নই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব না এবং জীবনের বাকি সময় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের রাজনীতি করব না।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে বিষয়টি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে তিনি ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হই। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের আহ্বায়ক হই। পরবর্তীতে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি।
২০০৩ সালে তিনি ৫ নম্বর নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। ওই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করি।
ফকির আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেই আমি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জীবনের বাকি সময় আমি আর কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবো না।
এ বিষয়ে জানতে মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জিন্নাহকে একাধিক ফোন দিলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
