মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক আবেদন ডেডলাইনের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিড়

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৬ পিএম

Malaysia news
বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন জমার শেষ সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসায় গতকাল বিকেল ৫টা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে শতাধিক মানুষ জড়ো হন। এতে নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধি ও বেসরকারি কর্মসংস্থান সংস্থার প্রতিনিধিরাও ছিলেন। উদ্দেশ্য—আবেদন জমা দেওয়ার জন্য কিউ নম্বর সংগ্রহ।

বারিতাহারিয়ান-এর খবরে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সুযোগ না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগেই লাইনে দাঁড়ান। একটি বেসরকারি নিয়োগ সংস্থার প্রতিনিধি কেলভিন চিয়ং বলেন, ক্লায়েন্টদের আবেদন নিয়ম অনুযায়ী জমা নিশ্চিত করতেই আগে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “চাহিদা অনেক বেশি, অথচ সময় দেওয়া হয়েছে কম। তাই নিয়োগকর্তারা যেন আবেদন জমার সুযোগ হাতছাড়া না করেন, সে জন্য আমাদের আগেভাগেই আসতে হচ্ছে।”

আবেদনকারীদের কয়েকজন জানান, নির্মাণ, উৎপাদন ও প্ল্যান্টেশন খাতে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা এখনো তীব্র। সে কারণেই কিউ নম্বর নিশ্চিত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন তারা।

এই অবস্থায় মন্ত্রণালয় এলাকার আশপাশে সামান্য যানজট তৈরি হলেও নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। জানা গেছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি কিউ নম্বর দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কোটার আবেদন গ্রহণ ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হবে। ফলে ডেডলাইন যত ঘনিয়ে আসছে, উপস্থিতির সংখ্যা তত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে অক্টোবর মাসে সরকার কয়েক মাসের স্থগিতাদেশ তুলে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন পুনরায় চালু করে। নির্মাণ, উৎপাদন, প্ল্যান্টেশন ও সেবা খাতে শ্রমিক সংকটের অভিযোগের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সেবা খাতের জন্য বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন সাধারণ সময়সীমার আগেই, ২৬ ডিসেম্বর বন্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার লক্ষ্যে—বিশেষ করে অনিবন্ধিত এজেন্টদের দমন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি শ্রমিক নির্ভরতা কমাতে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন খাতের প্রকৃত চাহিদা, শ্রম আইন মানা এবং নিয়োগকর্তাদের পূর্ববর্তী কমপ্লায়েন্স রেকর্ডের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অনুমোদন দেওয়া হবে।

সরকার আরও বলেছে, এই ব্যবস্থা সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় শ্রমশক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও শিল্পে অটোমেশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর