জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন মানুষ একটু শান্তির আশ্রয় খোঁজে, ঠিক তখনই চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে বরগুনার তালতলী উপজেলার চন্দন্তলা গ্রামে ৭০ বছরের বৃদ্ধা হামিদা খাতুনের। স্বামী-সন্তানহীন এই বৃদ্ধার নেই থাকার মতো একটি নিরাপদ ঘর, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা। অনাহার, শীত আর বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। হামিদা খাতুন জানান, তিন দিন ধরে তিনি কিছুই খাননি। ক্ষুধার যন্ত্রণায় অনেক সময় শুধু পানি খেয়েই থাকতে হয় তাকে। শীতের রাতে গায়ে দেওয়ার মতো কোনো শীতবস্ত্র না থাকায় কনকনে ঠান্ডায় ঘুমাতে পারেন না তিনি। তার বসবাসের ছোট্ট ভাঙা ঘরটি এতটাই জীর্ণ যে বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতরেই পানি পড়ে। তিনি বলেন, “রাত নামলেই খুব ভয় করে। এই বুঝি ঘরটা ভেঙে পড়বে। কষ্টে কষ্টে ক্লান্ত এই শরীরটা যেন প্রতিদিনই নিভে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, “হামিদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে চরম অনাহারের মধ্যে দিন পার করছেন। অনেক সময় তিন–চার দিনও তার ঘরে রান্নার চুলা জ্বলে না। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাঝে মধ্যে তাকে খাবার দিই। কিন্তু এভাবে কতদিন আর সম্ভব? আমাদের পক্ষেও নিয়মিত সহায়তা করা কঠিন।”
তারা আরও বলেন, “হামিদা খাতুনের বয়স হয়েছে। এই বয়সে তার এমন কষ্ট কেউ মেনে নিতে পারে না। যদি সবাই একটু এগিয়ে আসে, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা মেলে, তাহলে হয়তো তার জীবনে একটু ভালো দিন ফিরতে পারে।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ ভরসা হিসেবে তিনি জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে একটি ঘরের আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি তিনি।
এলাকাবাসীর অনেকেই তার এই করুণ অবস্থার কথা জানলেও স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো হয়নি। মানবিক সহায়তা না পেলে যে কোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। জীবনের শেষ বয়সে এসে একজন মানুষের এমন অসহায় জীবন সমাজ ও প্রশাসনের জন্য গভীর বিবেকের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৭০ বছরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই: অনাহার ও অবহেলায় মানবেতর জীবন হামিদা খাতুনের
বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
৭০ বছরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই: অনাহার ও অবহেলায় মানবেতর জীবন হামিদা খাতুনের
