যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট বলেছেন, লন্ডনে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ফিলিস্তিনি জাতিসত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তাঁর মতে, এই দূতাবাস প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনিদের পরিচয় অস্বীকার করা সম্ভব নয়। পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথ এলাকায় ফিলিস্তিনের মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাসে উন্নীত করার উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত জোমলট বলেন, এটি কেবল নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
তিনি বলেন, এই দূতাবাস ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের অধিকারকে বাস্তবভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিফলন। গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি একটি বার্তা—তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না এবং তাদের জীবনকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ সরকার। এর আগে লন্ডনের এই ভবনটি ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
দূতাবাসের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সাধারণ জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সম্প্রতি দূতাবাসটি নিরাপত্তা হুমকির মুখেও পড়ে। এক ঘটনায় মুখোশধারীরা ইসরায়েলের পতাকা ও ব্রিটিশ পতাকা নিয়ে ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে এবং দেয়ালে আপত্তিকর স্টিকার লাগায়। এ ঘটনার পর দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জোমলট বলেন, যুক্তরাজ্যের এই স্বীকৃতি দীর্ঘ এক শতাব্দীর সংগ্রামের ফল। তবে একই সঙ্গে তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, গাজার জনগণ চরম মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সেখানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতে অঞ্চলটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ অস্থায়ী আশ্রয় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ফিলিস্তিনি দূতাবাসের এই উদ্বোধন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



