যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, শক্তিশালী ঝড় গোরেটির প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে স্কিলি দ্বীপপুঞ্জ ও কর্নওয়ালের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাতাসের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের রেড সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, উপকূলীয় ও খোলা এলাকায় দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা তারও বেশি হতে পারে।
মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে অগ্রসরমান গভীর নিম্নচাপ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত একটি ‘মাল্টি-হ্যাজার্ড’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাতাসের গতি হঠাৎ করে বেড়ে যায় এবং প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করে।
এদিকে, ওয়েলস, মিডল্যান্ডস ও উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু অংশে তুষারপাতের জন্য অ্যাম্বার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ব্যাপক তুষার জমার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার, আবার উঁচু এলাকায় ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষার জমতে পারে বলে জানিয়েছে মেট অফিস।
ঝড় গোরেটির প্রভাবে কর্নওয়ালের পশ্চিমাঞ্চল ও স্কিলি দ্বীপপুঞ্জে অত্যন্ত শক্তিশালী ঢেউ উঠতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়ের বাতাসের তীব্রতা সাম্প্রতিক বছরগুলোর উল্লেখযোগ্য ঝড় সিয়ারান (২০২৩) ও ইউনিস (২০২২)-এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
মেট অফিসের প্রধান পূর্বাভাসকারী নিল আর্মস্ট্রং বলেন, “রেড সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকায় বাতাসের গতি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। পাশাপাশি তুষারপাত ও বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।”
উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। স্কটল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে শূন্যের অনেক নিচে নেমে গেছে। কিছু অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ইংল্যান্ডের সব অঞ্চলের জন্য অ্যাম্বার কোল্ড ওয়েদার হেলথ অ্যালার্ট কার্যকর রয়েছে, যা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
মেট অফিস সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে, আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
