যুক্তরাজ্যের নরফোকে লৌহযুগের বিরল যুদ্ধবাদ্য ও শূকরের প্রতীক আবিষ্কার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

এস ইসলাস, লন্ডন থেকেযুক্তরাজ্যের নরফোক অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে লৌহযুগের দুটি অত্যন্ত বিরল নিদর্শন একসঙ্গে আবিষ্কৃত হয়েছে। একটি হলো প্রাচীন যুদ্ধবাদ্য কারনিক্স, অন্যটি শূকরের মাথার যুদ্ধমানদণ্ড। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, একই স্থানে এ ধরনের দুটি দুর্লভ বস্তু পাওয়া এক অসাধারণ ঘটনা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রি-কনস্ট্রাক্ট আর্কিওলজি দলের সদস্যরা থেটফোর্ড শহরের কাছে একটি নির্মাণস্থলে খননের সময় গত বছর এই নিদর্শনগুলো খুঁজে পান। আবিষ্কৃত কারনিক্সটি ইউরোপে এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সম্পূর্ণ যুদ্ধবাদ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ব্রিটেনে এই প্রথমবারের মতো শূকরের মাথার যুদ্ধমানদণ্ডের সন্ধান মিলল।

প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গ্যারি ট্রিম্বল বিবিসির ডিগিং ফর ব্রিটেন অনুষ্ঠানে বলেন, কারনিক্স নিজেই অত্যন্ত বিরল একটি বাদ্যযন্ত্র, আর শূকরের প্রতীকযুক্ত মানদণ্ড তার চেয়েও বেশি দুর্লভ।

সংরক্ষণবিদ জোনাথন কার জানান, প্রায় দুই হাজার বছর মাটির নিচে থাকার কারণে নিদর্শনগুলো খুবই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কারনিক্সটি পাতলা ধাতব পাত দিয়ে তৈরি হলেও এর নল, মুখপিস ও ঘণ্টার অংশ প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, যা একে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

এস ইসলাস, লন্ডন থেকেবিশেষজ্ঞদের মতে, কারনিক্স ছিল ইউরোপজুড়ে কেল্টিক জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত এক ধরনের যুদ্ধবাদ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে আতঙ্কিত করা এবং যোদ্ধাদের নির্দেশ দিতে এটি ব্যবহার করা হতো। পূর্ব অ্যাংলিয়ার আইসেনি গোত্র, যাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রানী বোউডিকা, তারাও এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করত বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে, শূকরের মাথার মানদণ্ডটি ব্রোঞ্জের পাত দিয়ে তৈরি। যুদ্ধের সময় এটি পতাকার মতো উঁচু করে ধরা হতো এবং সৈন্যদের সমবেত হওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইতিহাসবিদদের মতে, শূকর ছিল শক্তি ও সাহসের প্রতীক, যা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করত।

এই গুপ্তধনের মধ্যে আরও পাওয়া গেছে পাঁচটি ঢালের ধাতব অংশ এবং একটি অজ্ঞাত লৌহবস্তু। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০ সাল থেকে খ্রিস্টীয় ৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। আবিষ্কারের পর পুরো মাটির ব্লকটি সতর্কতার সঙ্গে তুলে স্ক্যান করা হয়, যাতে প্রতিটি বস্তু কোথায় ছিল তা নির্ধারণ করা যায়।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আবিষ্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে করোনারের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং এটি “ট্রেজার” হিসেবে ঘোষিত হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নিদর্শনগুলোর গবেষণা ও সংরক্ষণে হিস্টোরিক ইংল্যান্ড, নরফোক মিউজিয়াম সার্ভিস এবং ন্যাশনাল মিউজিয়ামস স্কটল্যান্ড যৌথভাবে কাজ করছে।

নরফোক মিউজিয়াম সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কিউরেটর ড. টিম পেস্টেল বলেন, এই আবিষ্কার নরফোকের লৌহযুগের ইতিহাসকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে এবং আইসেনি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, এই আবিষ্কারের বিস্তারিত কাহিনি বিবিসি টু চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডিগিং ফর ব্রিটেন-এ প্রচারিত হবে।

 



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর