সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের রিংউডে অবস্থিত সাউদার্ন কাউন্টিজ ভেটেরিনারি স্পেশালিস্টস হাসপাতালে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণ বেঁচে গেল কবি নামের একটি বিড়ালের।
২০২৫ সালের শুরুতে, নিয়মিত চেকআপের সময় ভেটেরিনারিয়ানরা কবি সম্পর্কে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন। সহ-মালিক পল লভাট জানালেন, “খেলাধুলা করার সময় সে দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিল এবং ঘুমের সময় তার গলায় স্পন্দন অনুভূত হত।” পরে তারা কেবল বিড়াল ও কুকুরের জন্য বিশেষায়িত একটি হসপিটালে নিয়ে যান।
অভিজ্ঞ কার্ডিয়োলজিস্ট টোবি ওয়াগনার জানিয়েছেন, কবি হৃদযন্ত্রের অতিরিক্ত শিরার কারণে অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছিল এবং হৃদরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েক ঘণ্টার একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়, যাতে অতিরিক্ত রক্তচলাচলের পথগুলো ব্লক করা হয়।
কবি-এর সহ-মালিক মেরি রাফেল বললেন, “অস্ত্রোপচার ছাড়া সে নিশ্চিতভাবে মারা যেত।” চিকিৎসার খরচ প্রায় বার হাজার পাঁচশত ব্রিটিশ পাউন্ড হলেও বীমা ও বিশেষ অনুদান দ্বারা এর একটি বড় অংশ কভার করা হয়। অন্যান্য ভেট বিল, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট খরচ প্রায় একুশ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ডে দাঁড়ায়। পল লভাট বলেন, “সম্ভবত কবি বর্নমাউথের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিড়াল।”
ওয়াগনার আশা প্রকাশ করেছেন যে, কবি-এর ঘটনা দেখায় ভেটেরিনারি সার্জারিতে এখন কতদূর উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বললেন, অনেক পশুপ্রেমী উচ্চ খরচের ভয়ে তাদের পোষ্যদের চিকিৎসা করাতে দ্বিধা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “অনেক পশু বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং এটি মূলত আর্থিক কারণেই হচ্ছে। এটি দুঃখজনক।”
একই হাসপাতালে পেগি নামের একটি জ্যাক রাসেল কুকুরকেও অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। জন্মের পর বন্ধ না হওয়া একটি রক্তনালী তার হৃদপিণ্ডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছিল। অস্ত্রোপচারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পেগি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। কার্ডিয়োলজিস্ট ভিকি গ্রীট বলেন, “মানব হাসপাতালের মত ব্যবস্থা এখানে আছে, তাই আমরা আমাদের কাজকে খুব গুরুত্ব দিয়ে করি।”
রিংউডের এই হাসপাতাল সম্প্রতি সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং এখন এটি যুক্তরাজ্যের বড় বিশেষায়িত রেফারেল সেন্টারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ওয়াগনার বলেন, “আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি কারণ আমরা জানি এই প্রাণীরা তাদের মালিকদের জন্য কতটা মূল্যবান।”
