আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলাকলি প্রতীকের বিজয় নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি চান আর আল্লাহ যদি নিয়তিতে লিখে রাখেন, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির পর সংসদে আমাকে তিন মিনিট সময় নিয়ে কথা বলতে বলা হবে।’
তিনি বলেন, আজকের এই জনসমাগমই প্রমাণ করে দেয় ১২ তারিখে শাপলাকলির জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। দেবিদ্বারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সংসদে যাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সকাল সকাল সবাই কেন্দ্রে চলে যাবেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। ভোট চুরি ঠেকাতে জনগণকেই সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে হবে।’
সভায় উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা বয়সের কারণে ভোট দিতে পারবে না, তারা যেন বাড়ি গিয়ে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের শাপলাকলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি ফোন করে পরিচিতদের ভোটকেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানানোর কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাস্তায় রাস্তায় পাহারা দিতে হবে—যেন কেউ টাকা নিয়ে এলাকায় ঢুকতে না পারে। জুলাইয়ে তরুণরা পেরেছে, এবারও তরুণরাই ভোট চোরদের ঠেকাতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা আপনারা আপনাদের আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। কেউ যদি ভোটের আগের রাতে টাকা নিয়ে আসে, তাকে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেবেন।’
এসময় তিনি বলেন, এলাকায় যেন কেউ অর্থ বিতরণ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তরুণদের প্রতি তার আহ্বান—ভোটের দিন কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নিয়ে অনিয়ম প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মোজাফফর আহমেদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মজিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
