বৈশ্বিক সংঘাতের মাঝেও মালয়েশিয়ার অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল

Malaysia news
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাতের মাঝেও মালয়েশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে থাকায় পেট্রোলিয়াম খাত থেকে বাড়তি আয় হচ্ছে, যা ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে সহায়তা করছে। উচ্চ তেলের দামের কারণে RON95 জ্বালানির ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে আর্থিক সংহতি পরিকল্পনা মোটামুটি সঠিক পথে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালের সাবাহ রাজ্য নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে।

মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে বলেছে, রিঙ্গিতের গতিপথ নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি টেকসই রাখার ওপর। জ্বালানি ভর্তুকি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা মালয়েশিয়ার ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার বর্তমানে মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন  রিঙ্গিত ভর্তুকি দিচ্ছে। খরচ কমাতে এপ্রিল থেকে Budi95 প্রোগ্রামে ব্যক্তিগত বরাদ্দ ২০০ লিটারে নামানো হয়েছে, যদিও দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে (১.৯৯ প্রতি লিটার)। ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়া (বিএনএম) আপাতত ২.৭৫% নীতিগত সুদের হার পরিবর্তনের চাপে নেই। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

যদি তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতি সরকারের নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মালয়েশিয়ার সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং এখনো শক্তিশালী। সামান্য বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি হলেও তা ঐতিহাসিক সীমার মধ্যেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ০.২–০.৪% ঝুঁকি থাকলেও, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৪.৬% এর কাছাকাছি থাকতে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছু ব্যাঘাত ঘটলেও তা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪% বা তার নিচে নেমে আসে, তাহলে সুদের হার কমানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।