২ এপ্রিল শিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক(এআইআইবি)-এর প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান জৌ জিয়া-ই-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সফরে আসে। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি, বিশেষ করে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তর, ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালয়েশিয়া সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ন্যাশনাল এনার্জি ট্রানজিশন রোড প্ল্যান (এনইটিআর) এবং তৃতীয় মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (আরএম থারটিন)। এসব নীতিমালার মাধ্যমে দেশটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আলোচনায় উভয় পক্ষই টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে সবুজ জ্বালানির বিকল্প ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারের ক্ষেত্রেও এআইআইবি-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। উচ্চমূল্য ও বৃহৎ প্রভাব ফেলতে সক্ষম খাতগুলোতে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে এআইআইবি-এর অব্যাহত সহযোগিতা মালয়েশিয়ার উন্নয়ন যাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, মালয়েশিয়া সরকার দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সহায়ক, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বচ্ছ রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশকে স্থিতিশীল ও সহনশীল রাখার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক মালয়েশিয়া ও এআইআইবি-এর মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

