স্টকটন ও ডার্লিংটন রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ এএম

Saiful, Londonযুক্তরাজ্যে স্মারক ও সংগ্রহযোগ্য কয়েন বা কোমেমেরেটিভ সুভ্যেনির সংগ্রহ করা আমার একটি ব্যক্তিগত শখ। এই শখের সূত্রেই সম্প্রতি আমি একটি বিশেষ স্মারক কয়েনের সন্ধান পাই, যা ৯৯ পেন্স মূল্য মানের “Stockton and Darlington 1825–2025” শীর্ষক ঐতিহাসিক রেলপথের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়েস্টমিন্সটার কালেকশন কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে।

এই কয়েনটি হাতে আসার পর আমি বিশ্বের প্রথম যাত্রীবাহী রেলপথের অসাধারণ ইতিহাস সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহী হয়ে উঠি। ১৮২৫ সালে ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া এই রেলযাত্রা আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিল—যা পরবর্তীতে পুরো বিশ্বের যোগাযোগ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়।

এই অনন্য ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট আগ্রহী পাঠকদের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই আমি এই প্রতিবেদনটি রচনা করেছি। আশা করি, এই গল্পের মাধ্যমে পাঠকরা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাথেই পরিচিত হবেন না, বরং আধুনিক রেলযাত্রার সূচনালগ্ন সম্পর্কেও একটি পরিষ্কার ধারণা লাভ করবেন।

বিশ্বের প্রথম আধুনিক যাত্রীবাহী রেল পরিষেবার সূচনা ঘটে ১৮২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ইংল্যান্ডে। এই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে Stockton and Darlington Railway-এ। এটি মূলত কয়লা পরিবহনের জন্য তৈরি হলেও পরে এতে সাধারণ যাত্রী পরিবহন শুরু হয়, যা রেল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

এই রেলপথটি যুক্ত করেছিল Stockton-on-Tees এবং Darlington শহরকে। উদ্বোধনী যাত্রায় ব্যবহৃত হয়েছিল বিখ্যাত বাষ্পচালিত লোকোমোটিভ Locomotion No. 1, যা চালান রেল প্রকৌশলী জর্জ স্টিফেনসন। এই যাত্রাকে আধুনিক রেল পরিবহনের জন্ম হিসেবে ধরা হয়।

প্রথম দিকে ট্রেনটি মূলত কয়লাভর্তি ওয়াগন টানত, কিন্তু পরে এতে যাত্রীবাহী কোচ যুক্ত করা হয়। এই সাফল্য দ্রুতই ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেলপথ নির্মাণের অনুপ্রেরণা জোগায়।

২৭ সেপ্টেম্বর ১৮২৫ ইংল্যান্ড তথা বিশ্বে এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় বিশ্বের প্রথম আধুনিক রেলপথ, যা যুক্ত করেছে স্টকটন ও ডার্লিংটন শহরকে।

সেদিনের উদ্বোধনী যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য মানুষ। বাষ্পচালিত ইঞ্জিন Locomotion No. 1 প্রথমবারের মতো যাত্রী ও মালবাহী ওয়াগন টেনে নিয়ে যাত্রা শুরু করে, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছিল।

প্রকৌশলী জর্জ স্টিফেনসনের নেতৃত্বে তৈরি এই রেল ব্যবস্থা প্রথমে কয়লা পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত হলেও পরে এটি ইতিহাসে স্থান করে নিল যাত্রী পরিবহনের নতুন যুগের সূচনার মাধ্যমে।

সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ’’এই নতুন পরিবহন ব্যবস্থা সময় ও শ্রম সাশ্রয় করবে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে’’ ভবিষ্যত বাণী পরবর্তীতে সত্য প্রমাণিত হয়।

এই “স্টিম রেলওয়ে” পরবর্তীতে শুধু ইংল্যান্ড নয়, পুরো বিশ্বে পরিবহনের ধারণা পাল্টে দিয়েছিল। জর্জ স্টিফেনসনের স্টিম ইঞ্জিনটি লন্ডনের ’সাইন্স মিউজিয়ামে’ অক্ষত অবস্থায় দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর