তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে, সে জন্য নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। পুরো মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এ ছাড়া সিসিটিভি, ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও আশপাশের ভবনের ছাদেও বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম কাজ করবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনিয়ন্ত্রিত হকার প্রবেশ ঠেকাতেও থাকবে কড়া নজরদারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে জোরদার করা হয়েছে সাইবার পেট্রোলিং।
রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে; নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য থাকবে আলাদা গেট।
মো. সরওয়ার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে। পুরো রুট কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে প্রবেশ বন্ধ থাকবে, শুধু বের হওয়ার জন্য গেট খোলা থাকবে।
পহেলা বৈশাখের দিন ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট, নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড থাকবে। যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
