লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (সেলিম) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই কমিশনের কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। বরং কমিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রলম্বিত করা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শুরুতে এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম স্পিকারের মুক্তিযুদ্ধকালীন বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং ১৯৭৩ সালে ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর অনন্য রেকর্ডের (ডবল হ্যাটট্রিক) প্রশংসা করেন। তিনি পাঠ্যপুস্তকে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্পিকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানোর জন্য নিজ এলাকার বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানান।
‘রাষ্ট্রপতিকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন বানানোর চেষ্টা’
মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সেলিম অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে ঐকমত্য কমিশন নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছিল। কমিশনের কিছু প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই জানতাম না। কিন্তু কমিশনের বৈঠকে আমাদের ডেকে নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের বয়স পরিবর্তন এবং সংসদের মেয়াদ ৪ বছর করার প্রস্তাব ছিল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার কৌশল।’ তবে বিএনপির প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আহমদ বিচক্ষণতার সঙ্গে সেই সময়ের পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতার প্রস্তাব করার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাহী বিভাগকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ তথা অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে উদ্বেগ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন কমিশন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যস্ত রেখেছিল, তখন তারা চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তি করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র ৬,৭০০ কোটি টাকার বিনিময়ে ৫১ একর জমি ৪৮ বছরের জন্য লিজ দেওয়া একটি ‘অসম চুক্তি’। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাই এই বিনিয়োগ করতে সক্ষম দাবি করে তিনি বলেন, ‘আজকে বিডা’র কোনো অর্জন নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে।’ এ বিষয়ে যেকোনো প্ল্যাটফর্মে তিনি তর্কে রাজি আছেন বলে জানান।
এলাকার উন্নয়ন ও মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি
বক্তৃতায় লক্ষ্মীপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রয়াত মহাত্মা গান্ধীর সফরের স্মৃতিচারণ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর যাওয়ার সরাসরি কোনো উন্নত রাস্তা নেই। তিনি দ্রুত সরাসরি যাতায়াতের রাস্তা, স্থানীয় হাসপাতালের উন্নয়ন এবং আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সবশেষে, দেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যেকোনো ধরনের ‘বাহাস’ বা বিতর্কে তিনি প্রস্তুত আছেন বলে সংসদকে অবহিত করেন।
