প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়ল ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। এই বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে মোট ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বেশি।

প্রতিরক্ষা বাজেটের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অন্যান্য সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে সংশোধিত বাজেটে ৪০ হাজার ৫০২ কোটিতে দাঁড়ায়। মূলত ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এবং সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা আরও সুসংহত করতে বরাদ্দের এই বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এবারের বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আয় ও ব্যয়ের মধ্যকার ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট পেশকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের পূর্বে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি প্রদান করেন। আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই অর্থবছর কার্যকর হবে। সরকার আশা করছে, এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর