যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে নতুন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অংশ হিসেবে উত্তর ফ্রান্সের উপকূলে দুটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করাই এই ইউনিটগুলোর প্রধান লক্ষ্য। নতুন মোতায়েন করা ইউনিটগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং একটি নতুন বিশেষ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট। গ্রীষ্মকালীন সময়ে অবৈধ নৌযাত্রার প্রবণতা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় এই বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে। মোট ১২৫ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তা ও রিজার্ভ সদস্য এই অভিযানে যুক্ত থাকবেন।
এই বাহিনীর দায়িত্ব হবে অভিবাসীদের অবৈধ যাত্রার প্রস্তুতি ব্যাহত করা, মানবপাচারকারীদের শনাক্ত করা এবং ছোট নৌকা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ করা। নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, হেলিকপ্টার, বিমান ও ক্যামেরা ব্যবস্থার সহায়তাও নেওয়া হবে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার সর্টারমার বলেন, অবৈধ অভিবাসনের মতো যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। তাঁর মতে, নতুন বিশেষ ইউনিটগুলো দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি জানান, ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযানের ফলে গত মাসে অবৈধ নৌপথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রায় অর্ধেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, মানবপাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে এবং উপকূলে অবৈধ যাত্রা শুরুর আগেই তা বন্ধ করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ইউনিটে ৭৫ জন কর্মকর্তা থাকবেন। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের নির্দিষ্ট সময় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এই ইউনিট এর আগেও ২০২৫ সালে ছোট নৌকায় অবৈধ যাত্রা ঠেকানোর প্রায় ২০ শতাংশ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের স্থায়ী বিশেষ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর ৫০ জন সদস্যও এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। তারা জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং মানবপাচারকারীদের নতুন কৌশল প্রতিরোধে কাজ করবেন।
যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের নতুন চুক্তির আওতায় উত্তর ফ্রান্সের উপকূলে আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ৫০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করা হবে। কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ১৬ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। চুক্তির আওতায় উপকূলীয় এলাকায় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, অবৈধ নৌযাত্রা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি জার্মানিতে পরিচালিত এক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সী, জার্মান ফেডারেল পুলিশ এবং ফরাসি পুলিশের মানবপাচারবিরোধী ইউনিট যৌথভাবে বেশ কিছু নৌকা ও ইঞ্জিন জব্দ করেছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, নির্বাচনের পর থেকে প্রায় ৭০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে দেশ থেকে সরানো হয়েছে এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান গত এক বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে।
