ভারতে অবস্থান করা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এমনটা আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া উদ্যোগ ও অগ্রগতি কমিটিকে জানানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা আমাদের সরকারের অন্যতম অ্যাজেন্ডা। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে থাকা দুই প্রতিমন্ত্রীই জানিয়েছেন, তারা কাজ করছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে মন্ত্রণালয় কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটিতে জানানোর জন্য সুপারিশ করেছি। এ বিষয়ে কমিটি মন্ত্রণালয়কে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, তাও জানাতে বলেছি।
জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, এসকে আজিজুল বারী, এবিএম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম। এছাড়াও কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হুমায়ুন কবির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মায়ানমার সরকারের পাশাপাশি আরাকানের আর্মির সঙ্গে মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করবে বলে বৈঠকে জানিয়েছে। আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করবে সংসদীয় কমিটি। সেখানে তারা একটি সেমিনার করবে। তাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। কমিটি আগামী অক্টোবর মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করে বৈঠকে।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘সামাজিক সচেতনামূলক প্রচারাভিযান’ করা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
