পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আবারও অজানা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৯ শিক্ষার্থী। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউপির বেতমোর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ ছাত্রীদের অভিভাবক এবং শিক্ষকরা উদ্ধার করে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অসুস্থ শিক্ষার্থী জাকিয়া, সানজিদা, মিম, কাইফা, লামিয়া, মারিয়া, সুরাইয়া, নুসরাত, সাদিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্র জানায় দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এসব শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া কালবেলাকে জানায়, প্রথমে পাঠদান কক্ষে তার মাথা ঘুরানো শুরু হয়। এরপর হঠাৎই গায়ে প্রচণ্ড জ্বর লক্ষ করে সে। পরে ক্লাস শিক্ষক তাকে বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নিতে বললে সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই মাথাঘুরে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর তাকে সাহায্যে করতে সহপাঠীরা এগিয়ে এলে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে তাদের সবারই মাথাব্যথা এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানায় জাকিয়া।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব উল্লাহ কালবেলাকে বলেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া প্রথমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একে একে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে গেলে বিদ্যালয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছে।
কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, মূলত সাইকোজেনিক হাইপারভেন্ট্রিলেশন বা হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসব শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ভয় বা আতঙ্ক থেকে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার কারণে দেহে তৈরি হওয়া কার্বনডাই অক্সাইড যথাযথভাবে বের হতে পারে না, ফলে শ্বাসকষ্ট, হাত-পা বাঁকা হয়ে আসা, দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘুরানো, বুক ব্যথাসহ নানা উপসর্গ প্রকাশ পায়। এটা আসলে ব্যক্তি ও তার আশপাশে থাকা লোকজনের উপর নির্ভর করে যথাযথ কাউন্সেলিং, রিঅ্যাসুরেন্স আর সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট পেলে খুব অল্প সময়েই সুস্থ হয়ে ওঠে। বর্তমানে অসুস্থ হয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। তারা দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার চম্পাপুী ইউপির এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অজানা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
