ক্রিকেট মাঠে মুখে কপালের পাশে ছোট একটি এআই ডিভাইস লাগিয়ে আলোচনায় রয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। বিশেষ প্রযুক্তির এই ডিভাইস কেন ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দারুণ কৌতূহল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে অনুশীলনে প্রথমবার তাকে এই ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরপর আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও গিলের কপালের পাশে দেখা যায় একই যন্ত্র।
ডিভাইসটির নাম ‘টেম্পল’। প্রায় ৮৫ হাজার ভারতীয় রুপি মূল্যের এই প্রযুক্তি সাধারণ স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ডের মতো নয়। এটি মূলত মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন এবং শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় সংকেত পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি বিশেষ একটি ওয়্যারেবল ডিভাইস।
জোমাটো ও ইটারনালের প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ ওয়্যারেবল ডিভাইস। আকারে ছোট, ডিম্বাকৃতির যন্ত্রটি কবজিতে পরার পরিবর্তে কানের সামনের দিকে কপালের পাশের শঙ্খদেশে লাগানো হয়। বিশেষ আঠালো প্যাচের সাহায্যে এটি ত্বকের সঙ্গে আটকে থাকে। ফলে অনুশীলন কিংবা খেলাধুলার সময়ও এটি ব্যবহার করা যায়।
টেম্পলের মূল প্রযুক্তির নাম ‘ব্রেনফ্লো’। এতে থাকা অপটিক্যাল বা আলোভিত্তিক সেন্সরের মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট সংকেত সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রযুক্তিটির।
এ ছাড়া ডিভাইসটিতে রয়েছে ‘এন্ট্রপি’ নামে একটি বিশেষ স্কোর, যার পরিসর ১ থেকে ২৫০। নির্মাতা দীপিন্দর গোয়েলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই স্কোর শরীরের শারীরবৃত্তীয় চাপ বা পরিশ্রমের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়। ব্যায়াম, ঘুম, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা বিশ্রামের মতো বিষয় এতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণ স্মার্টওয়াচ যেখানে মূলত হৃদস্পন্দন, ঘুম ও শারীরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, সেখানে টেম্পলের লক্ষ্য মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত সংকেত বিশ্লেষণ করা।
একজন ক্রিকেটার দীর্ঘ সময় ব্যাটিং, ফিল্ডিং কিংবা অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনের সময় শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিক চাপের মধ্যেও থাকেন। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে শরীরের প্রতিক্রিয়া, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার সম্পর্কে বাড়তি তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গিল ঠিক কোন উদ্দেশ্যে ডিভাইসটি ব্যবহার করছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এই ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ফলে ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাতেও অ্যাথলেটদের মধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বাজারে টেম্পল ডিভাইসটির প্রথম ব্যাচের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার রুপি। ১ নভেম্বর থেকে এর প্রি-অর্ডার শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা দীপিন্দর গোয়েল। প্রতিটি ডিভাইস অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করে সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, টেম্পল কোনো প্রচলিত ব্রেন স্ক্যানিং যন্ত্র নয়। এটি ইইজি-এর মতো মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে না এবং কোনো রোগ নির্ণয় কিংবা চিকিৎসাগতভাবে সুস্থতা নিশ্চিত করার বিকল্পও নয়।
