লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে নামায় ১২ জেলেকে আটক করে কোস্টগার্ড। এ সময় ৪টি মাছ ধরার নৌকাসহ ৫ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। এরমধ্যে ১১ জনকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মেঘনা নদীর রায়পুর উপজেলার আজগর সওদাগরের চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলেদের অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
আটক জেলেরা হলেন, বিল্লাল মাল, খোকন, হৃদয় গাইন, আবুল কালাম, মোহাম্মাদ আলী, মো. রাসেল, মনির মিঝি, সবুজ হাওলাদার, আব্দুল জাব্বার, কাদির সর্দার ও তসলিম। এরমধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অন্য জেলেদের প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে জব্দকৃত চায়না দুয়ারি জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া জব্দ হওয়ায় ৪ টি নৌকার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা নদীর রামগতির চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এ সময় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেঘনা নদীতে অভিযান জোরদার করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ২ বছরের কারাদণ্ড ও উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, আইন অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারে নামায় ১২ জেলেকে আটক করা হয়। এরমধ্যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিল। বাকি ১১ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
