বাগেরহাটের ফকিরহাটে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের লুটপাটের ঘটনায় মো. হাফিজুর রহমান (৭৯) নামে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নুর জাহান বেগম (৬৩) গুরুতর অসুস্থ হয়ে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত হাফিজুর রহমান ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা গ্রামের মৃত ইজার উদ্দিন শিকারীর ছেলে। তিনি পুলিশের রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে খুলনা পুলিশ লাইন থেকে অবসর নেন। স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে তাদের ওপর চেতনানাশক স্প্রে করে অচেতন করা হয়। এরপর ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরদিন সকালে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক নারী ঘর থেকে অদ্ভুধ শব্দ (গোঙানি) শুনতে পান। বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে তারা বাড়িতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান কালবেলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা দিয়ে প্রবেশ করে চেতনানাশক স্প্রে করে স্বামী-স্ত্রীকে অচেতন করে। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী নুর জাহান বেগম বর্তমানে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ হাফিজুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।
নিহত হাফিজুর রহমানের এক ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। তার একমাত্র মেয়ে মিলি রহমান (৪০) দুই বছর আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে বেতাগার বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বসবাস করতেন।
